
নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওহিদুজ্জামানকে হঠাৎ প্রত্যাহার করায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই কর্মকর্তাকে অহেতুক ও রাজনৈতিক চাপে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন বাসন থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এর প্রতিবাদে যুবশক্তির ব্যানারে এনসিপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। ওই ঘটনার পর থেকেই গাছা থানার ওসি মো. ওহিদুজ্জামানকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এনসিপির মুখ্য সংগঠক আলী নাসেরের চাপ ও তদবিরের মুখেই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ঘটনার স্থান ও প্রশাসনিক এখতিয়ার নিয়ে। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যে মিছিলকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত, সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাসন থানা এলাকায়। অথচ ওই ঘটনার পর বাসন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে গাছা থানার ওসি মো. ওহিদুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, ঘটনাটি যদি বাসন থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটে থাকে, তাহলে গাছা থানার ওসিকে বদলি করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
জানা যায়, এর আগে ওহিদুজ্জামান টঙ্গী পূর্ব থানায় প্রায় ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকেও তাকে হঠাৎ বদলি করে গাছা থানায় পাঠানো হয়েছিল। গাছা থানায় যোগদানের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি ওহিদুজ্জামান মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয় এবং এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসে। স্থানীয়দের দাবি, তার সময়ে গাছা থানা এলাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ মাদক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আসে এবং চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতি দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়।
গাছা এলাকার বাসিন্দা মো. আলম বলেন, “এই ওসি যোগদানের পর আমরা রাতের বেলায় অনেকটাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পেরেছি। ৫ আগস্টের পর গাছার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা অবনতির দিকে গেলেও তার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”
অন্যদিকে, ওসির এই প্রত্যাহারে সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধচক্রের সদস্যরা সন্তুষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসীর একাংশ।
গাছার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, কোনো ধরনের সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া একজন দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা ওসি ওহিদুজ্জামানের প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন